প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি

জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি

নামঃ হযরত মাওলানা হাফেজ আনছার উদ্দীন সাহেব দা.বা.
খলীফাঃ মরহুম আবদুল হালীম রহ. ওলামা বাজার ফেনী
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকঃ জামিয়া মিফতাহুল উলুম ধন্যপুর মাইজদী , সদর, নোয়াখালী
চেয়াম্যানঃ জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়্যাহ নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা।

জন্ম ও বাল্যকারঃ নোয়াখালী জেলার সদর থানাধীন ধন্যপুর গ্রামে ১৯৪৯ সালে এক সম্ভ্রান্ত পরিবাবে জন্ম গ্রহণ করেন হাফেজ মাওলানা আনছার উদ্দীন সাহেব। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা গিয়াস উদ্দীন সাহেব ও দাদা মাওলানা বশির উল্লাহ সাহেব।

প্রাথমিক শিক্ষা: তাঁর মাতা রাজিয়া বেগম হাফেজা হওয়াতে মায়ের নিকট তিনি কুরআনুল কারীমের নাজেরা সহ প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন । হিফজুল কুরআন তিনি নিজ নানার নিকট পবিত্র কুরআন কারীম পাঁচ পারা হিফজ করে ঢাকার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান বড় কাটারা মাদরাসায় ভর্তি হয়ে পীরজী হুজুরের সান্নিধ্যে থেকে ১৫ পারা হিফজ করেন । অতপরঃ সেখান থেকে লালবাগ জামিয়া কোরানিয়া মাদরাসায় গিয়ে হিফজ সমাপ্ত করে সনদ অর্জন করেন। কিছু প্রাথমিক কিতাবাদিও উক্ত মাদরসায় অধ্যয়ন করেন।

উচ্চশিক্ষা: তিনি ইলমের অধিক পিপাসা নিয়ে নোয়াখালীর সদর থানাধীন চরমটুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত তিতার কান্দি ইসলামীয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। এবং সেখানে স্বীয় উস্তাদদের ত্বত্তাবধানে নাহমীর থেকে মিশকাত পযর্ন্ত নাহব , সরফ, ফিকাহ উছুলে ফিকাহ তাফসীর এবং হাদীসের বেশ কিছু কিতাবাদি সমাপ্ত করেন। সে সয়য় উক্ত মাদরাসায় তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে ছিলেন- ১। মাওলানা মাও. আবদুল কাহার সাহেব ২। মাওলানা শিব্বীর আহমদ সাহেব ও ৩। মাওলানা বশির উল্লাহ সাহেব অন্যতম । অতপর ১৯৭৯ সালে নোয়াখালী ইসলামীয়া মাদরাসার ভর্তি হয়ে দুই বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে পড়া লেখা করেন ১৯৮০ সালে তিনি কামিল (এম.এ) সমাপ্ত করেন এবং সর্ব উচ্চ মেধা তালিকায় উত্তির্ণ হন । তখন তাঁর প্রসিদ্ধ ওস্তাদ দের মধ্যে মাওলানা আবদুল গণী সাহেব মাওলানা ছিদ্দিক উল্লাহ সাহেব মাওলানা আবদুল আজীজ সাহেব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।

কর্ম জীবন: ১৯৮১ সালে সোনাইমুড়ী আলিয়া মাদরাসায় মোহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর কর্ম জীবনের সূচনা হয়। সেখানে দুই বৎসর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইলমে হাদীসের দরস প্রদান করেন, অতঃপর, ১৯৮৩ সালে স্বীয় উস্তাদ দের ডাকে সাড়া দিয়ে নোয়াখালী ইসলামিয়া মাদরাসায় মোহাদ্দিস হিসেবে অধ্যাপনা কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং সুদীর্ঘ আট বৎসর যাবৎ সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে হাদীসের খিদমত আঞ্জাম দেন।

জামিয়া মিফতাহুল উলুম ধন্যপুর প্রতিষ্ঠা : তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি ১৯৮২ সালে দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা মোতাবেক নিজ গ্রামে একটি কাওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামীয়ার অধ্যাপনা অবস্থায় ও তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানটি দেখা শুনা করেন। অবশেষে ১৯৯০ সালে স্বীয় শায়খ হযরত মাওলানা আবদুল হালিম সাহেব এর আদেশে সক্রিয়ভাবে উক্ত প্রষ্ঠিানের মোহতামিম নিযুক্ত হন। তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষ পরিচালনায় উক্ত প্রতিষ্ঠানটি মক্তবও হিফজুল কুরআন থেকে শুরু করে বর্তমানে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পৌঁছে এবং নোয়াখালীর একটি বৃহৎ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে তিনি হাদীসের বিভিন্ন কিতাব পাঠদানসহ বর্তমানে শায়খুল হাদীস পদেও নিযুক্ত আছেন।

আধ্যাত্মিক সাধনা: তিনি যাহেরি ইলমের সাথে সাথে বাতেনি ইলমে অর্জন করা আবশ্যাক মনে করে বিখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার মাওলানা আবদুল হালিম সাহেব রহ. এর খিদমতে উপস্থিত হন। এবং আত্মশুদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। ১৯৯০ সালে স্বীয় শায়খ আবদুল হালিম রহ. তাঁর আধ্যাতিকতা অবলোকন করে জামিয়া মিফতাহুল উলুম ধন্যপুর এর সালানায় জলসায় ওলামায়ে কিরাম ও সর্ব সাধারনের উপস্থিতিতে তাকে খিলাফত প্রদানে ধন্য করেন। দাওয়াত ও তাবলীগ : দাওয়াত ও তাবলীগের সাথে তিনি ছাত্র জামানা থেকেই জড়িত ছিলেন। তাবলীগের নিছবতে তিনি ভারত, পাকিস্তান, আবুধাবী, ইন্দোনিশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যা-, ও সিঙ্গাপুর সহ বিভিন্ন দেশে সফর করেন। এছাড়াও বিভিন্ন মাহফিল ও জলসায় শরীক হয়ে ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে এবং অনেক ধর্মীয় গ্রন্থাবলী রচনা করার মাধ্যমে দ্বীনি খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন ।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট: তিনি অত্যান্ত নম্র, ভদ্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী । অনেক বড় হৃদয়ের মালিক এবং অতিথি পরায়ণতা তাঁর অন্যতম গুণ। তাঁর সদাচারণে সকল ছাত্র , শিক্ষক এমনকি সর্বস্তরের জনসাধারণও মুগ্ধ । এক কথায় তাঁর পুরো জীবনটাই ঈর্ষণীয় ও অনুসরণীয়

ইন্তেকালঃ জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ১৯ অক্টোবর দুপুর ১২: ৮ মি. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইি রাজিউন