যতমত ততপথ দলিল ভিত্তিক আমলই নাজাতের পথ l মাও. আবু হাচ্ছান নাছির উদ্দীন


[লিখেছেন হাফেজ নাছির, November 29, 2018 08:53 pm ]


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। অসংখ্য সালাত-সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর।
সকল-ই শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার : প্রত্যেক ব্যক্তিই মনে করে যে মাটিতে সে হাঁটে সে মাটিই শ্রেষ্ঠ। যে বাতাসে সে ঘুরা ফেরা করে সে বাতাসই বেশি স্বচ্চ। আকাশের যে অংশের নিচে রয়েছে তার বাসস্থান সে অংশটাই বেশি নীল। চাঁদের যে পিঠে বেশি আলো সে দিকটা তার দিকে ফিরানো। এরকম আরো অনেক শ্রেষ্ঠত্বের গল্প রয়েছে যা বলতে বা লিখতে পারলেই চলে। দলিল প্রমাণের কষ্ট পোহানোর প্রয়োজন পড়ে না।
দাবীর স্বপক্ষে দলিল আবশ্যক : কিন্তু কেউ যদি দাবী করে, আমার মত ও পথই শ্রেষ্ঠ। শরীয়তের ব্যাপারে আমার বুঝ-বিবেচনা ও কর্ম পদ্ধতিই সঠিক। তাহলে অবশ্যই সে দাবীর স্বপক্ষে গ্রহণযোগ্য দলিল-প্রমাণ থাকতে হবে। শুধু দাবী করলেই সঠিক প্রমাণিত হবে না। যেমন কুরআনের ধারাবাহিক সনদ রয়েছে, হাদীসের ধারাবাহিক সনদ রয়েছে, ফিকহের ধারাবাহিক সনদ রয়েছে, আজো পর্যন্ত বলবৎ আছে। এমনিভাবে দ্বীনের সঠিক বুঝবৃক্ষেরও একটি সনদ রয়েছে। তা উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। তাই দলিল-প্রমাণ সহকারে কথা বলতে হবে, যাতে মন্দ ও ভ্রষ্টরা ইসলামের নামে যা-ইচ্ছা তা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস লক্ষণীয়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
“لو يعطى الناس بدعواهم لادعى رجال أموال قوم و دمائهم، و لكن البينة على المدعي و اليمين على من أنكر”
অর্থ: মানুষ যা দাবী করে, তাই যদি তাদেরকে দিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে অনেক মানুষ অন্য মানুষের ধন-সম্পদ ও জীবন দাবী করে বসতো। কিন্তু দলিল-প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব দাবিদারের উপরেই….. [সুনানে বাইহাকী সুগরা-৪/১৮৮; সুনানে বাইহাকী কুবরা-১০/৪২৭ হাদীস নং ২১২০০]
অর্থাৎ, শুধুমাত্র দাবীর উপর ভিত্তি করে যদি মানুষকে তাদের দাবীকৃত বিষয় দিয়ে দেয়া হতো, তাহলে মানুষ অন্যের ধন-সম্পদ, এমনকি অন্যকে হত্যা করতে হবে, এমন দাবী করে বসতো। কিন্তু সবাইকেই তাদের দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করতে হয়।
তাই কেউ নিজের পথ কিংবা মতকে সঠিক দাবী করলে তাকে তার দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে। আর বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে, কারা এ দাবীতে সঠিক আর কারা ভুল, তা বের করার চেষ্টা করবে।
ইমাম ইবনে সিরীন রহ. বলেন: ইসলামের প্রথম প্রজন্ম ইসনাদ তথা হাদীস বর্ণনাকারীদের সূত্র পরম্পরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ভণ্ড নবী দাবীদার মুখতার ইবনে উবাইদ-এর আবির্ভাব হলো এবং হাদীস জাল করা শুরু হলো, তখন ইসনাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হওয়ায় তারা বলতেন, তোমরা সূত্র পরম্পরা উল্লেখ করো। কেননা و لولا الإسناد لقال من شاء ماشاء (সহীহ মুসলিমের ভূমিকা, ১/১৫)
তাবেয়ীন এবং তাবে-তাবেয়ীন রহ. এর যুগে যখন মানুষ ইচ্ছামতো হাদীস বর্ণনা শুরু করলো, অনেকে হাদীস জাল করা শুরু করলো, তখন তারা সহীহ হাদীসকে চেনার জন্য রাবীদের নাম বর্ণনা করার রীতি চালু করেন। এতে আল্লাহর রহমতে সহীহ হাদীস সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
বর্তমান ফিত্নার যুগে “নবী-রাসূলগণের ওয়ারিস হওয়ার দাবীদার” একদল ওলামায়ে “ছুঁ” যখন ইসলামকে বিকৃত করে চলেছে, দুনিয়ার সামান্য অর্থবিত্ত ও মান-মর্যাদার লোভে ইসলামের বিধি-বিধানসমূহ পরিবর্তন করে চলেছে-তখন নবী-রাসূলগণের প্রকৃত উত্তরসূরি হকপন্থি উলামায়ে কেরামের দায়িত্বে এটাও আসে যে, -তারা দ্বীনের ব্যাপারে প্রতিটি কথার সাথে তার যথাযথ দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করবেন; যাতে সাধারণ মুসলমানগণ নামধারী আলেম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুলপথে চলে না যায় এবং যাতে ইসলামের সঠিক রূপ সংরক্ষিত থাকে।
দলিল অস্বীকার করা কুফরী : আজ কোন কোন অঙ্গন থেকে বলা হচ্ছে- উম্মত দলিলের পেছনে পড়ে গোমরাহ হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ)। দলিল অর্থ হচ্ছে, কুরআন ও হাদীস। যদি কেউ মনে করে, কুরআন-হাদীসের পেছনে পড়ে উম্মত গোমরাহ হয়ে গেছে, তাহলে সে মুরতাদ। এ কুফুরী উক্তির কোন ব্যাখ্যাও গ্রহণযোগ্য নয়।
এ উক্তির দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হবে যে, মাদরাসা শিক্ষায় পড়–য়ারা হেদায়া জামাত পড়ার আগ পর্যন্ত হেদায়েতের উপর থাকে, হেদায়া জামাত থেকে যত উপরে যায় তত সে গোমরাহ হতে থাকে। কারণ হেদায়া জামাতের আগ পর্যন্ত সাধারণত দলিলমুক্ত দ্বীন শিক্ষা দেওয়া হয়, আর হেদায়া জামাতের পর থেকে দলিল ভিত্তিক দ্বীন শিক্ষা দেয়া হয়।
অন্ধ অনুসরণ ভ্রষ্টতার নামান্তর : নবী-রাসূলগণের উত্তরসূরি আলেমগণ প্রত্যেকটি শাখাগত মাসআলার দলিল জেনে নিবেন এবং দলিল ভিত্তিক ইলম চর্চা করবেন। যাতে প্রয়োজনের সময়, হক-বাতিলের পার্থক্য করার যোগ্যতা অর্জন হয়ে যায় এবং বাতিল পন্থীদের অসারতা প্রমাণ করত সঠিক মাসআলা সাব্যস্ত করতে সক্ষম হয়। দলিল ব্যতিরেকে শুধু অন্যের বোল-চালে প্রভাবিত হবেন না। যেমন: আজকাল বলতে শুনা যায়,-অমুকে করছেন, তমুকে বলছেন। বনী ইসরাঈল এর মত অন্ধ অনুসরণ থেকে একজন আলেম নিজেও বেঁচে থাকবেন এবং সকলকে সতর্ক করে দিবেন। নিজের অজান্তেই সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে গেছে এমন যেন না হয়।
এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমের নির্দেশনা হলো:
اتخذوا أحبارهم و رهبانهم أربابا من دون الله الخ
“আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা তাদের আলেম এবং দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে”-সূরা তাওবা, ৯ : ১৩১
قل هل ننبئكم بالأخسرين أعمالا . الذين ضل سعيهم فى الحياة الدنيا و هم يحسبون أنهم يحسنون صنعا.
“বল, আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত? তারা সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে।”-সূরা কাহফ, ১৮ : ১০৩-১০৪
অতএব প্রকৃত আলেমগণ দলিলের আলোকে ফরজ-ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইত্যাদির যে স্তর ও বিন্যাস করা হয়েছে তার যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। এমন যেন না হয়; ফরজ-ওয়াজিবের তুলনায় সুন্নতের গুরুত্ব বেশি দেয়া হলো বা কিছু ফরজ আদায় করা হলো অন্য কিছু ফরজ আদায়ের চিন্তাও করা হলো না, বা ফরজ বিধান থেকে চির মুক্তির অজুহাত খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত হওয়া বা দলিলের আলোকে আমল যোগ্য নয়, তার পরেও শুধু অন্যে করছেন এ অজুহাতে! তা আঁকড়ে ধরা নবী-রাসূলগণের প্রকৃত উত্তরসূরির কর্ম-পদ্ধতি হতে পারে না।
এবং মনে রাখতে হবে- “দলিলের মাপকাঠিতে যা হারাম তাকে কেউ উপকারী মনে করলে তার ঈমান থাকবে না। উপকারী বলতে হলে আগে দলিলের আলোকে তার হারাম হওয়া বাতিল হতে হবে। এমনিভাবে দলিলের আলোকে যা ফরয ওয়াজিব তাকে কেউ ক্ষতিকর মনে করলে তার ঈমান থাকবে না। কোন ফরয বা ওয়াজিবকে ক্ষতিকর বলতে হলে আগে দলিলের আলোকে তার ফরয ওয়জিব হওয়াকে বাতিল করতে হবে।”
উদাহরণ স্বরূপ কয়েকটি বিষয়ের দিকে শুধু ইঙ্গিত করা হলো, বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ও সম্পাদনা বিজ্ঞ পাঠকের উপর ন্যাস্ত হলো।
ক.  তাহাজ্জুদের জামাত : হাদীস, আসারে সাহাবা ও মুজতাহিদীনে কেরামের দীর্ঘ তাহকীকের পর শেষ ফয়সালা এটাই হয়েছে যে, তাহাজ্জুদের নামাজ জামাতের সাথে পড়া মাকরূহ। হানাফী মাযহাবের সর্ব সম্মত              সিদ্ধান্ত এটাই। তাই চলে আসা রীতি বর্জন করে দলিলকে আঁকড়ে ধরা যুক্তিযুক্ত নয় কী?
খ.  নূরের তৈরি : أول ما خلق الله نوري (আল্লাহ তা’য়ালা সর্ব প্রথম আমার নূরকে সৃষ্টি করেছেন) হাদীসটি জাল বা মাউযূ। যার জাল হওয়ার ব্যাপারে হাদীস বিশারদগণের কারো কোন দ্বিমত নেই।             পরিতাপের কারণ; কেউ কেউ দলিলকে উপেক্ষা করছে শুধু অন্ধ-অনুসরণের কারণে।
গ.  إلا الله যিকর : মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামের তাহকীক হল- إلا الله যিকর জায়েজ, নাজায়েজের কিছু নেই। আর শিরক কুফরের তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু সাথে সাথে একথাও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে,         শুধু إلا الله উচ্চারণ করে এ পদ্ধতির যিকর নববী যুগ ও সাহাবা যুগে ছিল না। তাছাড়া শব্দ হিসাবে এর অর্থ ‘আল্লাহ ছাড়া’ হতেও পারে। তাই এ পদ্ধতির যিকর অনুত্তম এবং পরিহার করলে ভালো। অতএব যে কোন আমল দলিলের আলোকে যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
ঘ.  ফাযায়েলে আমাল : বিভিন্ন ইলমী গবেষণাগার থেকে আওয়াজ উঠেছে যে, ‘ফাযায়েলে আমাল’ কিতাবে এমন কিছু হাদীসের উল্লেখ এসেছে, উসূলে হাদীসের বিচারে যেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস বলে উল্লেখ  করা বা বয়ান করা উচিত নয়। উল্লেখ্য ফাযায়েলে আমাল নামক কিতাবের তা’লীম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও উপকারী। ওলামা-তলাবা হযরতদের খেদমতে আরজ থাকবে; উক্ত কিতাবে যে হাদীসগুলোর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে, সেগুলোকে আপত্তিকর বলতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না।
ঙ.  হাল্লাজ দর্শন : হোসাইন ইবনে মানসূর হাল্লাজ যাকে সংক্ষেপে মানসূর হাল্লাজ বলা হয়। তার থেকে এমন কিছু কুফরী বক্তব্য ও আচরণ প্রকাশ প্রায় দলিলের আলোকে যার কোন ব্যাখ্যা করা যায় না। এ কারণে         তৎকালীন সকল মুফতিয়ানে কেরামের ঐক্যমতে তাকে যিন্দীক সাব্যস্ত করে হত্যার রায় দেয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও হয়েছে। অতএব দলিলকে উপেক্ষা করে শুুধু কাশ্ফ ও কেরামত তথ্য বয়ান করা আদৌ         সমীচিন হবে কী?
চ.  জিহাদ : জিহাদ কুরআন দ্বারা প্রমাণিত একটি ফরজ বিধান। শতাব্দীকাল থেকে জিহাদ সারা বিশ্বের মুসলমানের উপর ফরজ হয়ে আছে। ফরজে কেফায়া ফরজে আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। জিহাদ ফরজ হয়ে আছে একাধিক কারণে। বিশেষ কোন ভূখÐ, বা বিশেষ কোন গোত্র তার উপর জিহাদ ফরজ হওয়ার একটি কারণকে কোন অজুহাতে এড়িয়ে যেতে পারলেও আরেকটি কারণের কাছে সে আটকা পড়ে যাবে। একবার  ফরজ হওয়ার পর সে ফরজ আদায় করার আগে নতুন কারণে তা আবারো ফরজ হয়েছে। এ ফরজ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের ধারাবাহিকতা থাকলেও আদায়ের ব্যাপারে কোন তৎপরতা নেই।           দুঃখের বিষয় হলো; আমরা যেন দলিল-প্রমাণকে উপেক্ষা করে জিহাদ থেকে অব্যাহতি নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি।
ছ. ইসলামী খেলাফত : কুরআনের আয়াত, রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীসের আলোকে আকিদার কিতাবাদির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা ফরজ। প্রায় এক শতাব্দি কাল থেকে পৃথিবীর কোথাও ইসলামী শরীয়ত পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আমাদের এই দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এই শরীয়তের জায়গা দখল করে নিয়েছে ব্রিটিশ-আমেরিকা তৈরি আইন-কানুন। হতাশার কারণ; আহলে হকের দাবীদারগণের কেউ কেউ দলিল ব্যতিতই শরীয়ত প্রতিষ্ঠার নামে কুফর প্রতিষ্ঠার মেহনত করে চলছে।
জ. দার এর ইলম : দারুল কুফরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা হারাম। দারুল ইসলামে হিজরত করা ফরজ। একজন মুসলমানের প্রতিদিনের শত শত মাসআলা এর সঙ্গে জড়িত। এ জন্য তাকে অবশ্যই জানতে হবে, সে দারুল ইসলামে বাস করছে নাকি দারুল কুফরে বাস করছে। একজন আলেমকে সিদ্ধান্তের পক্ষের দলিলকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে হবে। অসহায়ের কারণ; ওলামায়ে কেরামদের অনেকেই দলিলর অনুসন্ধান ছেড়ে দিচ্ছে শুধু বে-আদবীর ভয় করে।
শেষ কথা : বড় কোন অসুখ হলে ভালো ডাক্তার খুঁজে নেয়ার ব্যাপারে এবং ভালো ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য আমরা যতটুকু চেষ্টা করি, যতটুকু শক্তি-সামর্থ্য-সময় ব্যয় করি, জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য, জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য, সঠিক দ্বীন-ইসলাম শিখার জন্য, নবী রাসূলগণের প্রকৃত উত্তরসূরিদের খুঁজে বের করার জন্য কি আমরা তার কিয়দাংশও ব্যয় করি?
জায়গা, ফ্ল্যাট ইত্যাদি কেনার সময় আমরা যে পরিমাণ সতর্কতার সাথে দলিল-দস্তাবেজ যাচাই-বাছাই করে থাকি, খোঁজ-খবর নিয়ে থাকি, দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারসমূহের ইলম অর্জনের সময় কি আমরা নূন্যতম ততটুকু সতর্ক থাকি?
বর্তমানে মুসলমানদের এক দল সরাসরি কুরআন ও হাদীসের অনুবাদ পড়ে সবকিছু বুঝে ফেলবে বলে ধারণা করছে। অপর দল নিজেদের জন্য কুরআন-হাদীস পড়া নিষিদ্ধ করে নিয়েছে। কিংবা যাকে অনুসরণ করছে, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ঐ আলেমের নূন্যতম যোগ্যতা রয়েছে কিনা তা যাচাই করার প্রয়োজনবোধ করছে না, সাধ্যমাফিক নবী-রাসূলদের সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি আলেমদের খুঁজে বের করার প্রয়োজনবোধ করছে না।
সাধারণ মুসলমানদের জন্য আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া অপরিহার্য, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই-বাছাই না করে যে কোন আলেমের কাছে যাওয়া অনুচিত। তাই আমাদেরকে নবী-রাসূলগণের প্রকৃত উত্তরসূরিদের খুঁজে বের করে তাদের কাছ থেকে দ্বীন শিক্ষা করতে হবে।
হে আল্লাহ! লেখক-পাঠক সকলকে নবী-রাসূলগণের প্রকৃত উত্তরসূরি আলেমদের থেকে দ্বীনের ইলম অর্জন করে আমল করার তাওফিক দাও, তোমার পছন্দনীয় পথে চলার তাওফিক দাও এবং দুনিয়া থেকে দ্বীনকে বেশি প্রাধান্য দেয়ার তাওফিক দাও। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

 

  – লেখক –

   মাওলানা আবু হাচ্ছান নাছির উদ্দীন
ফাযেল ও মুদাররেছ, জামিয়া মিফতাহুল উলূম ‍
মুহতামিম : শান্তির হাট দারুল উলূম কাওমী মাদরাসা